যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ইরানে চালানো সামরিক অভিযানের জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব হামলায় মার্কিন সেনা হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির যে দাবি ইরান করেছে, তার বেশির ভাগই যুক্তরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলো অস্বীকার করেছে।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে মার্কিন ব্যবহৃত ড্রোন রাখার স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। একই সঙ্গে ক্যাম্প তিতিনে মার্কিন সেনাদের অবস্থানেও হামলার দাবি করেছে তারা। তবে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করলেও ১০টি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ভূপাতিত করা হয়। বাকি তিনটি জনবসতি থেকে দূরের এলাকায় পড়ে এবং এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েতের সেনাবাহিনী তাদের আকাশসীমায় ড্রোন আসার তথ্য দিয়েছে। তারা বলেছে, যদি কোনো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় তাহলে এটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ড্রোন ভূপাতিত করার শব্দ হবে। তবে নিরাপত্তার জন্য সবাইকে নিরাপদ স্থানে থাকার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে দীর্ঘপাল্লার আরকিউ-৪ এবং এমকিউ-৯ ড্রোন থাকা হ্যাঙ্গারগুলোকে লক্ষ্য করে একটি ‘ভারি’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি।
ইরানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, এই হামলায় কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে। বেশ কয়েকজন মার্কিন ফ্লাইট ও কারিগরি বিভাগের কর্মী নিহত হয়েছেন।
এর আগে হরমোজগান প্রদেশের সিরিক অঞ্চলের একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার পর এই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানায় তেহরান। গত জুলাই মাসের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্যে এ পাল্টাপাল্টি সংঘাতের সূচনা হলো। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মার্কিন প্রশাসন সতর্ক করেছে যে, ইরানি হামলা অব্যাহত থাকলে তেহরানের ওপর আরও কঠোর আক্রমণ চালানো হবে।











